মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সিটিজেন চার্টার

১.০পটভূমি: ১৯৫৪ এবং ১৯৫৫ সালের উপর্যুপরিভয়াবহ বন্যার পর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘেরঅধীনে গঠিত ‘‘ক্রুগ মিশন’’সুপারিশক্রমে এতদঞ্চলের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে১৯৫৯ সনে পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিওয়াপদা) গঠন করা হয়।স্বাধীনতার পর মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫৯, ১৯৭২ মোতাবেক ইপিওয়াপদা এর পানিঅংশ উহার একইMandateনিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড(বাপাউবো) নামেএকটিস্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়। অতঃপর বাপাউবো আইন ২০০০ অনুসারে পানি সম্পদমন্ত্রণালয়ের অধীন বাপাউবো পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংস্থা হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

২.০উদ্দেশ্য :নাগরিক সনদ প্রণয়নের উদ্দেশ্যস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতেবাপাউবোর সকল কার্যক্রমপরিচালনা করা।

২.১প্রকল্প প্রনয়ণ: স্থানীয়জনগনের মতামত, চাহিদা বা প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আলোচনার ভিত্তিতে ‘‘বটম আপ’’পদ্ধতিতে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়, অর্থাৎ উপর থেকে (টপ ডাউন) প্রকল্পচাপিয়ে দেয়া হয় না।প্রাথমিক অনুসন্ধান, যাচাই-বাছাইয়ের পর বিসত্মারিত সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেবাসত্মবায়নযোগ্য প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (Development Project Proposal/ Proforma - DPP) বা ডিপিপি প্রস্ত্ততকরা হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের আর্থিক সীমা অনুসারে প্রশাসনিক মন্ত্রনালয়, পরিকল্পনা কমিশন বা একনেক কর্তৃক ডিপিপি অনুমোদনের পর সংশি­ষ্ট প্রকল্পের বার্ষিক উন্নয়নকর্মসূচী বা এডিপি প্রণয়ন করা হয়। অতঃপর প্রচলিত সরকারী বিধি বিধান, নীতি ও আইনঅনুসারে প্রকল্প বাসত্মবায়ন করা হয়।


২.২ সংক্ষিপ্তসাফল্য :

ক্রমিকনং

প্রকল্পেরপ্রকার

প্রকল্পেরসংখ্যা

পানিব্যবস্থাপনা অবকাঠামো

বন্যানিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ

১৬০

বন্যানিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন সুবিধাভূক্ত এলাকা ৬০ লক্ষ হেঃ

সেচ সুবিধাসুবিধাভূক্ত এলাকা ১৪.১ লক্ষ হেক্টর

সমুদ্রথেকে ভূমিউদ্ধার ১,৫০০ বর্গ-কিলোমিটার

বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ১০,১০৬ কিঃমিঃ

সেচ খাল ৫,১৫৩কিঃমিঃ ও নিষ্কাশন খাল ৩,৯৭৭ কিঃমিঃ

পানি নিয়ন্ত্রণকাঠামো ১৪,১১০ টি

ব্রীজ/কালভার্ট৫,৫৯৯ টি

পাম্প হাউজ -১৯ টি (১০০টি পাম্প)

ব্যারেজ - ৪ টিও ক্লোজার ১৩০০ টি

সেচ

৯৩

নিষ্কাশন ও সেচ

৫৩

বন্যানিয়ন্ত্রণ ওনিষ্কাশন

১২২

উপকূলীয় বন্যানিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন

১২৪

নিষ্কাশন

৩৬

অন্যান্য

১২২

 

মোট

৭১০

 


২.৩উলে­খযোগ্য অবদান:

১. বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার আওতায় ২০০৭-০৮ সনে প্রায় ৯২.৭ লক্ষ টন অতিরিক্ত খাদ্য শষ্যউৎপাদিত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্যমান ১৬ হাজার কোটি টাকার অধিক।

২. ২০০৭ সন পর্যন্তদেশের মোট এলাকায় প্রায় ৪৯% বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধার আওতাধীনহয়েছে।

৩. ২২০ টি স্পার ও ৫২২কিঃমিঃ রিভেটমেন্টের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৪০০ গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা, শহর ইত্যাদিনদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য মান প্রায় ৪৩ হাজার কোটিটাকা।

৪. অন্যান্য অবকাঠামোসহ প্রায় ১০ হাজার কিমি বাঁধ নির্মিত হয়েছে যা ৮ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ ও ১ কোটি ৫৫লক্ষ ঘরবাড়ি সহ বিস্তির্ণ এলাকা বন্যা ও লবনাক্ততা হতে রক্ষায় অবদানরাখছে।

২.৪বন্যা পূর্বাভাষও সতর্কীকরণ : বাংলাদেশের জন্য বন্যা একটি বড় সমস্যা যাতে জনগণের জীবন ধারণএবংদেশেরসার্বিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্থহয়। বন্যা জনিত ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা এবংবন্যা মোকাবেলায় যথাযথ প্রস্তূতি গ্রহণের জন্য ৪৮ ঘন্টা এবং ৭২ ঘন্টার আগামবন্যা পূর্বাভাষ ওসতর্কীকরণ দেয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদী বন্যা ও খরা পূর্বাভাষ প্রদানেরলক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মৌসুমীবন্যাপূর্বাভাস প্রদানে কারিগরী সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে বাপাউবোবিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়েআসছে।

২.৫দুর্যোগব্যবস্থাপনা : বাপাউবো দেশের শীর্ষ সংস্থা যা বন্যা এবং বন্যা জনিত দুর্যোগমোকাবেলা, দুর্যোগ জনিতক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং পানি সম্পদউন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত। এজন্য সরকারী বিধিবিধান যেমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক স্থায়ী আদেশ, (Standing Order for Disaster - SoD) অনুসরণ করা হয়। বন্যার সময়বাপাউবো’র কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ সার্বক্ষণিক নজরদারীতে নিয়োজিত থেকে বন্যা জনিতক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সম্ভব সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। উপকূলীয় বাঁধ ঘূর্ণীঝড় ওজলোচ্ছাস থেকে জনজীবন ও সহায়-সম্পদ রক্ষা করছে। বাপাউবো’র বিভিন্ন প্রকল্পেরঅধীনে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণীঝড় আশ্রয়কেন্দ্রনির্মাণ করা হয়েছে। নদীভাঙ্গন পানি জনিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্যোগ, যাতে বিপুল জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্তহয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছেএবং হচ্ছে। এ বিষয়ে পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্দ্যোগগ্রহন করা হয়েছে। সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় খরা জনিত দুর্যোগ মোকাবেলার জন্যবিভিন্ন প্রকল্পে অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠী খরামোকাবেলাকরছে।

২.৬ ভূমি পুণরুদ্ধার, চর উন্নয়ন ওবসতী স্থাপন :নদী এবং সমূদ্র থেকে ভূমি উদ্ধারকরে, যথাযথ কাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের পর ঐ সব জমিতে ভূমিহীন লোকদের সংগঠিত বসতিস্থাপনের কার্যক্রম চলমান আছে। এটি আন্তঃবিভাগ/মন্ত্রণালয় সমন্বিত কর্মসূচী। এপর্যন্ত বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকায় প্রায় ১,০০০ বর্গ-কিমি ভূমি উদ্ধারকরে তাতে ভূমিহীন লোকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সংগঠিত বসতি স্থাপন করাহয়েছে।

৩.০ বাপাউবোর কার্যাবলী :বাপাউবোআইন ২০০০ অনুসারে বাপাউবো’র সার্বিক কার্যাবলী পরিচালিত হয়। জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯ ওজাতীয় পানি মহাপরিকল্পনা-২০০৪ এরআলোকে এবং অন্যান্য বিধানাবলীসাপেক্ষে বোর্ড নিম্নবর্ণিত কার্যবলী সম্পাদন এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণকরে। বাপাউবো’র সার্বিক কার্যাবলী প্রধানত দুই প্রকার, যথা কাঠামোগত (structural)কার্যাবলী এবং অ-কাঠামোগত(non-structural) ও সহায়ক কার্যাবলী, যা নিম্নরুপ:

 

 

৩.১কাঠামোগতকার্যাবলী

 >নদী ও নদী অববাহিকানিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, সেচ ও খরা প্রতিরোধেরলক্ষ্যে জলাধার, ব্যারেজ, বাঁধ, রেগুলেটর বা অন্য যে কোন অবকাঠামোনির্মাণ;

>সেচ, মৎস্য চাষ, নৌ-পরিবহন, বনায়ন, বন্যপ্রাণীসংরক্ষণ ও পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নেসহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পানি প্রবাহের উন্নয়ন কিংবা পানি প্রবাহের গতিপথপরিবর্তনের জন্য জনপথ, খালবিল ইত্যাদি পুণঃখনন;

>ভূমি সংরক্ষণ, ভূমিপরিবৃদ্ধি ও পুনরুদ্ধার এবং নদীর মোহনা- নিয়ন্ত্রন;

>তীরসংরক্ষণ ও নদী ভাঙ্গন হতে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে শহর, বাজার, হাট এবং ঐতিহাসিক ও জাতীয়জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ সংরক্ষণ;

>উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ;

>লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ রোধ এবং মরুকরণ প্রশমন;

->সেচ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পানীয় জল আহরণের লক্ষ্যে বৃষ্টির পানি ধারণ।

৩.২  অ-কাঠামোগত ও সহায়ককার্যাবলী

->বন্যা ও খরাপূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ;

>পানিবিজ্ঞানসম্পর্কিত অনুসন্ধান কার্য পরিচালনা এবং এতদসম্পর্কিত তথ্য ও উপাত্ত গ্রহণ, সংরক্ষণও বিতরণ;

> পরিবেশ সংরক্ষণ ওউন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের সংশি­ষ্ট সংস্থার সহযোগীতায় এবংসম্ভাব্য ক্ষেত্রে বোর্ডের সৃষ্ট অবকাঠামোভূক্ত নিজস্ব জমিতে বনায়ন, মৎস্য চাষকর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং বাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণ;

>বোর্ডের কার্যাবলীর উপর মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা;

৪.দূরদৃষ্টি, ব্রত ও লক্ষ্য:

<!--[if   দূরদৃষ্টি(Vision)

ব্রত(Mission)

লক্ষ্য(Goal)

জাতীয় পানি নীতি, জাতীয় পানিমহাপরিকল্পনা, অংশগ্রহণ মূলক পানি ব্যবস্থাপনা গাইড লাইন এবং বাপাউবো আইন অনুসারেদেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন। ভবিষ্যতে ক্ষুদ্রায়তন পানিব্যবস্থাপনা প্রকল্পসমূহ (১০০০ হেক্টর পর্যন্ত)স্থানীয় সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মাঝারী এবং বড়(১০০১ হেঃ বা তদুর্ধ) প্রকল্প সমূহে স্থানীয় সংগঠনের সমন্বয়ে যৌথ ব্যবস্থাপনা চালুকরা হবে। এতে অর্ন্তভূক্ত থাকবে;

ক.সমাজের সকল স্তর, শ্রেণী ও পেশার লোকজনের অংশগ্রহণ ও জীবন মান উন্নয়ন।

খ স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা এবং আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সুশাসনপ্রতিষ্ঠা।গ.সকল শ্রেণী ও পেশা, বিশেষত দরিদ্র জনগনের জন্য কার্যকর ও দক্ষ সেবা প্রদান।

<পরিবেশবান্ধব টেকসইউন্নয়ন কৌশল অনুসরণ।

দেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠুব্যবস্থাপনা ও টেকসইউন্নয়ন সাধন। বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক নদীর প্রবাহ, লবণাক্ততা, জলবায়ুপরিবর্তন জনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের যথাযথ ব্যবস্থাপনারমাধ্যমে কৃষি, মৎস্য, বন ইত্যাদি ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন সাধন করা। আর্থিক সক্ষমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, জেন্ডার ন্যায্যতা এবং পরিবেশ সচেতনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেদেশের মানুষের জ্ঞান ও সামর্থ্য বৃদ্ধি করা যাতে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমেতাঁরা নিজেরাই সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে পানি সম্পদের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা করতেপারে।

জাতীয় পানিনীতি অনুসারে বাপাউবো’র লক্ষ্যসমূহ হচ্ছে;

- দারিদ্রহ্রাস

- খাদ্যনিরাপত্তা

- অর্থনৈতিকদক্ষতা

- জীবন মানউন্নয়ন

- প্রাকৃতিকপরিবেশের

ভারসাম্যরক্ষা

৫.০ পরিচালনা পরিষদ :বোর্ডেরবিষয়াদি ও কার্যাবলীর সাধারণ পরিচালনা ও প্রশাসন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিতমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিষদের উপর ন্যস্ত থাকবে এবংবোর্ড যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করতে পারবে পরিষদও সে সব ক্ষমতা প্রয়োগও কার্য সম্পাদন করতে পারবে।

৬.০ সেবাগ্রহীতা(Client) : সকল সরকারীবেসরকারী সংস্থা, সমাজের সকল শ্রেণী - পেশার অধিবাসী, দরিদ্র এবং বিশেষত হতদরিদ্রজনগন, যারা পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাঠামোগত ও অ-কাঠামোগত সকল সহায়ককার্যাবলীর সুবিধা গ্রহণ করেনবাপাউবোর সকল কার্যাবলীতে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত, অনগ্রসর, দরিদ্র এবং হত-দরিদ্র জনগন বিশেষভাবে বিবেচিত হনসেবাগ্রহীতার নিকটপ্রত্যাশা (১) পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে জারীকৃত সকলসরকারি বিধি, বিধান ও আইন কার্যকর এবং দক্ষতার সহিত অনুসরণ করা; এবং (২) পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পের সকল স্তরে সকলেরসক্রিয় অংশ গ্রহণসেবা গ্রহীতা (Client/Stakeholder) যে সকল সেবা যে দপ্তরের কাছে পাবেতা পরিশিষ্ট-ক এ সন্নিবেশিত করা হল।

৭.০ বোর্ডের কার্যক্রম সম্পর্কেআনীত অভিযোগ নিস্পত্তি: বাপাউবোর কর্মকান্ড দেশের সর্বত্র বিস্তৃতঢাকাতেসদর দপ্তর এবং জেলা/উপজেলাপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জনগন বা প্রচার মাধ্যম হতে কোনঅভিযোগ পাওয়া গেলে বা বিভাগীয় পর্যায়ে কোন কর্মকর্তা/ কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগউত্থাপিত হলে যথাযথ বিধিবিধান অনুসরন করে তদন্তপূর্বক তা নিস্পত্তি করা হয়প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ দেশের প্রচলিত আইনের আওতায়প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়উলে­খ্য, অভিযোগের ধরণ ও ব্যপ্তির উপরনিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ভরশীলঅভিযোগ তদমেত্মর কার্যপরিধিতে নিষ্পত্তির সময়সীমানির্দ্ধারিত থাকে

৮.০কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দাবী দাওয়া নিস্পত্তি :দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাপাউবো-তে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন আছেনির্বাচিত কর্মচারী সংগঠন তথা যৌথ দরকষাকষি সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মচারীদের বিভিন্নদাবী দাওয়া প্রয়োজনে বাপাউবো পরিচালনা পরিষদে উত্থাপন করা হয়ে থাকেকর্মকর্তা/কর্মচারীদের উলে­খযোগ্য দাবী দাওয়া হল:সমৃদ্ধবাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল দপ্তরকে (প্রধানকার্যালয়/মাঠ দপ্তর) ডিজিটাল নেটওয়ার্কিং এর আওতায় আনায়ন করা; বাংলাদেশ পানি উন্নয়নবোর্ড কে দক্ষ, গতিশীল, কার্যকর এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকায়গ্রীণ রোডস্থ পাউবোর নিজস্ব জায়গায় পানি ভবন নির্মাণ করা; পাউবো’র কার্যপরিধিঅনুসারে জনবল (need based man power) অনুমোদন ওনিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাকে কার্যক্ষম করা; বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডএ অনুমোদিত রিটেনশন পদ সহ সকল শুন্য পদে পদোন্নতি দান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শুন্যপদ সমূহ সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে পুরণ করা; বাংলাদেশ পানিউন্নয়ন বোর্ড (কর্মকর্তা/ কর্মচারী) খসড়া প্রবিধানমালা-২০০৮ বাতিল করতঃ ১৯৮২ সনেরচাকুরী বিধি যুগোপযোগী ও সুষম করে সংস্থাকে গতিশীল করা; ০১-১০-১৯৯১তারিখের পূর্বে মাষ্টাররোল/কন্টিনজেন্সি তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তচুক্তিভিত্তিক সকল শ্রমিক কর্মচারীদের চাকুরীতে আত্মীকরণ করা এবংড্রেজার পরিদপ্তর ও এমই পরিদপ্তর কে পাউবোর সেট-আপভূক্ত করা।উলে­খ্য, কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের দাবীদাওয়া নিষ্পত্তির সময় সীমাবাপাউবো, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, সংস্থাপনমন্ত্রণালয় এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধামেত্মর উপর নির্ভশীল।

৯.০ বৃক্ষরোপণ : গণ-প্রজাতন্ত্রীবাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত জাতীয় বন নীতি, ১৯৯৪ অনুসরন করে বাপাউবোর বৃক্ষরোপণকার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে (ক) উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসজনিত ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, জনগন ও সহায়-সম্পদ রক্ষা; (খ) বাপাউবোর অবকাঠামো সংলগ্নপতিত জমিতে বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার ও পরিবেশ সংরক্ষণ; এবং (গ)বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে সুবিধাভোগীদের সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে আর্থ সামাজিক অবস্থায়উন্নয়নবৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বাঁধের কোন ক্ষতি করা যাবেনা

১০.০ সেচ সার্ভিস চার্জ :বাস্তবায়িত বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প সমূহে জনগনের অংশ গ্রহণেরভিত্তিতে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রকল্পসমূহের পওর আংশিক ব্যয়ভার সুবিধাভোগীদের কাছথেকে ‘‘সার্ভিস চার্জ’’হিসাবে আদায়েরব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছেপ্রকল্পের উপকৃত কৃষকদের সমন্বয়ে গঠিত পানি ব্যবস্থাপনাসংগঠনকে সার্ভিস চার্জ আদায়ের দায়িত্বসহ আদায়কৃত অর্থ পানি ব্যবস্থাপনা সংগঠনেরসহিত আলোচনাক্রমে সংশি­ষ্ট প্রকল্পের প ও র কাজে ব্যয়করার ব্যবস্থা রেখেবিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছেএতেপ্রকল্পসমূহে জনগণের নিজস্ব মালিকানাবোধ সৃষ্টি, সেচের পানির অপচয় রোধ, সুষ্ঠুব্যবস্থাপনা ও প্রকল্পসৃষ্ট সুবিধার সুষম বন্টনের মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্দেশ্যসমূহবাস্তবায়ন এবং সুষ্ঠু পরিচালন ও টেকসই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় অধীবাসীদেরসম্পৃক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছেবর্তমানে (১) পাবনা সেচ ওপল­ী উন্নয়ন প্রকল্প, (২)মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, চাঁদপুর, (৩) তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প (১ম পর্যায়), (৪) মুহুরী সেচ প্রকল্প, (৫) কর্ণফুলী সেচ প্রকল্প, (৬) হারবাংছরি সেচ প্রকল্প, (৭)টাংগনবাঁধ প্রকল্প, (৮) বুড়ি তিস্তাপ্রকল্প, (৯) নারায়নগঞ্জ-নরসিংদী সেচ প্রকল্প, (১০) উত্তর রূপগঞ্জ পানি সংরক্ষণ ওসেচ প্রকল্প, (১১) চাঁদপুর সেচ প্রকল্প, এবং (১২) মনু নদী সেচ প্রকল্পসার্ভিস চার্জের আওতায় আনা হয়েছেপর্যাক্রমে অন্যান্য প্রকল্প এ ব্যবস্থারআওতাভূক্ত করা হবে

১১.০ জনগণের অংশগ্রহণ(Peoples’ Participation): জাতীয় পানি নীতি ওঅংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা মোতাবেক অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনার নীতিবাস্তবায়ন করা হচ্ছেস্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য সকল প্রকল্পে পানিব্যবস্থাপনা সংগঠন(WMO)গঠন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যপ্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছেWMOসমুহ পানি ব্যবস্থাপনা দল/গোষ্ঠি(WMG)পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি(WMA)এবং পানি ব্যবস্থাপনা ফেডারেশন(WMF)সমন্বয়ে গঠিত

১১.১ একনজরে বোর্ডের প্রকল্পসমূহেজনগনের অংশগ্রহণ নিম্নরুপ :

পানি ব্যবস্থাপনাসংগঠন

সংগঠনসংখ্যা

মোট সদস্যসংখ্যা

মন্তব্য

পানিব্যবস্থাপনা দল

৭৮৯৮ টি

২৮২৫৫৪ জন

এযাবৎ ১০৪টি প্রকল্পেWMO’র মাধ্যমে ২৯৭,২২৪ জন সদস্যপ্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখছেন। জনগনের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা হিসাবেWMOসমুহ হবে, পানি সম্পদব্যবস্থাপনার চালিকাশক্তি এবং স্থানীয় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার তৃর্ণমূল পর্যমত্ম সকল স্তরে সিদ্ধান্তগ্রহণে সক্ষম।

পানি ব্যবস্থাপনাএসোসিয়েশন

১৬৬ টি

১৩৯৯৫ জন

পানিব্যবস্থাপনা ফেডারেশন

৮ টি

৬৭৫জন

জাতীয় পানি নীতি অনুসারেপ্রকল্প/উপ-প্রকল্প/স্কীম এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এবং সফল পরীক্ষামূলক পরিচালনশেষে গৃহীতব্য পদক্ষেপ হবে;

-->বৃহৎপ্রকল্প/উপ-প্রকল্প/স্কীম (৫০০১ হেক্টর বা তদুর্ধ) লিজিং, ব্যবস্থাপনা চুক্তি অথবাযৌথ ব্যবস্থাপনারমাধ্যমে বেসরকারী ব্যবস্থাপনার আওতায় পরিচালিত হবেএবং এ প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা ওWMOসম্পৃক্ত থাকবে;

-->মাঝারিপ্রকল্প/উপ-প্রকল্প/স্কীমের (৫০০০ হেক্টর পর্যন্ত) ব্যবস্থাপনাWMOএর নিকট অর্পণ করাহবে,

 ->ক্ষুদ্রাকৃতি (১০০০হেক্টর পর্যমত্ম) প্রকল্প/উপ-প্রকল্প/স্কীম এর মালিকানা, যেগুলোWMOকর্তৃকসন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে, স্থানীয় সরকারসমূহের নিকট হস্তান্তর করাহবে।

ইজারা/ লিজিং/ব্যবস্থাপনা চুক্তি, যৌথ ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা হস্তান্তরের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যর মধ্যেঅন্তর্ভূক্ত থাকবে, (১) বিবিধ ব্যবস্থার আওতায় সম্পৃক্ত পক্ষসমূহের মধ্যে পারস্পরিকসম্পর্ক, (২)WMOর ভূমিকা ও দায়িত্ব(৩) বাস্তবায়নকারীসংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, অন্যান্যের ভূমিকা ও দায়িত্ব এবং (৪) বিরোধনিস্পত্তি এবং সমস্যা সমাধানের উপায়।

১২.০ যোগাযোগ ও মতামত প্রদান :পানি সম্পদ উন্নয়ন ওপানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাপাউবোজনগণের মতামতের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এজন্য বাপাউবো ওয়েব সাইটে (www.bwdb.gov.bd) সর্বসাধারন তাঁদের লিখিত মতামতই-মেইল এর মাধ্যমে প্রেরন করতে পারেন। এছাড়াও সদর দপ্তরে অবস্থিত বোর্ড সচিবালয় বাজনসংযোগ শাখায় লিখিত মতামত দেয়া যেতে পারে। জেলা পর্যায়ে সংশি­ষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরেওমতামত দেয়া যেতে পারে।